বুধবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. জেলা সংবাদ
  9. ধর্ম
  10. পড়া
  11. বাংলাদেশ
  12. মিডিয়া
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা
  15. সারাদেশে

সুবর্ণচরে বিগত বছরের তুলনায় পাঁচগুণ সরিষা আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিবেদক
সমকাল বার্তা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৪ ২:২৭ অপরাহ্ণ

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ- নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মেঘনা নদী তীরবর্তী উপজেলা সুবর্ণচর। ৫৭৬ বর্গকিলোমিটারের এই উপজেলাকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের শস্য ভান্ডার হিসেবে বিশেষজ্ঞরা আখ্যায়িত করেন। উপজেলায় তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে সয়াবিন বেশি আবাদ হলেও চলতি বছরে সয়াবিন লক্ষ্যমাত্রার অধিক চাষাবাদের পাশাপাশি সরিষা ফসল চাষাবাদে বিপ্লব ঘটেছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি পুটে উঠে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ হারুন অর রশিদ এর তৎপরতায় চলতি বছর ১৫৫৪ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়, যেখানে গতবছর মাত্র ৩৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিলো। চলতি রবি মৌসুমের শুরুতে সুবর্ণচর কৃষকের সুখের ঘরে হানা দেয় ঘূর্ণিঝড় “মিধিলি”। যার প্রভাবে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ৩৪৯০ হেক্টর আবাদকৃত খেসারির প্রায় ১৫৩০ হেক্টর খেসারি পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তখন কৃষকের দূর্দিনে ত্রাণকর্তা হিসেবে পাশে দাঁড়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুবর্ণচর এর অভিভাবক উপজেলা কৃষি অফিসার। তিনি উপজেলা কৃষি পুনঃবার্সন কমিটির বরাদ্দকৃত ৩০০০ জন কৃষককে প্রণোদনার সরিষা বীজ ও সার এবং বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (বিনা) থেকে প্রায় ১২০০ কেজি বিনা সরিষা- ৪,৯,১১ জাতের বীজ ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে আরো প্রায় ৫০০ কেজি সরিষা বীজ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেন।
 তাছাড়া দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে তেল আমদানী নির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরীণ তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি নিজে উপসহকারী কৃষি কর্তাগণের বিভিন্ন গ্রুপের সাথে মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন ও ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সরিষা  ফসলের আবাদ বৃদ্ধিতে বিপ্লব ঘটান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় যে, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উপজেলায় মাত্র ১৮ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসার উক্ত উপজেলার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তার প্রচেষ্টায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫ হেক্টর হয়। পরবর্তীতে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৩৪০ হেক্টর ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫৪ হেক্টর আবাদ অর্জন হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার  মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, – “ অপার সম্ভবনার উপজেলা সুবর্ণচর। এই উপজেলার শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। চলমান বৈশ্বিক মন্দা ও অর্থনৈতিক সংকটে তেল আমদানী নির্ভরতা কমাতে উপজেলা কৃষি অফিস, সুবর্ণচর ব্যাপক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে। তাছাড়া দেশে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা তিন বছরের তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এবং সে মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্যমাত্রার অধিক আবাদ অর্জন করেছি।”
কৃষক আকবর আলী বলেন, কৃষি অফিসার হারুন অর রশিদ এর তত্বাবধবানে এবং তার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা কৃষি চাষে এগিয়ে যাচ্ছি, যথাসময়ে বিজ, সার এবং পরামর্শে আমরা অনাবাধি জমি নতুন করে চাষাবাদ করার জন্য উদ্ভূদ্ধ হচ্ছি, পাশাপাশি তিনি সকল কৃষকের খোঁজ খবর নেন প্রতিনিয়ত এবার অধিক  সরিষা চাষের পরামর্শ তিনি দিয়েছিলেন।  এবং আমরাও লাভবান হবো বলে আশা করছি।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর